কর্মসংস্থানের দীর্ঘ সন্ধানে থাকা পশ্চিমবঙ্গের তরুণ-তরুণীদের আর্থিক সুরাহা প্রদানের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলার যুব-সাথী’ (Banglar Yuva Sathi) প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। এই নতুন স্কিমের অধীনে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড (Stipend) বা ভাতা প্রদান করা হবে। দীর্ঘ সময় ধরে চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় যাতে ছাত্র-ছাত্রী এবং তরুণ প্রজন্মকে আর্থিক সংকটের মুখে না পড়তে হয়, মূলত সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এই বিশেষ পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে এই প্রকল্পের সুবিধা যোগ্য প্রার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সমস্ত রকম প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু করে দেওয়া হয়েছে।
কবে থেকে মিলবে টাকা এবং কতদিন এই সুবিধা দেওয়া হবে?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী এপ্রিল মাস থেকেই এই প্রকল্পের মাসিক ভাতার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, এই আর্থিক সহায়তা আজীবনকালের জন্য দেওয়া হবে না। একজন বেকার যুবক বা যুবতী নিজের যোগ্যতায় কোনও চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত এই ভাতা পাবেন। এর পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে যে, সর্বাধিক ৫ বছর পর্যন্ত এই মাসিক ভাতা গ্রহণ করা যাবে। অর্থাৎ, কোনও প্রার্থীর কর্মসংস্থান হয়ে গেলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলে এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কোথায় এবং কবে রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে?
যাতে রাজ্যের কোনও প্রান্তের বেকার যুবক-যুবতীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য রাজ্যজুড়ে মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই অফলাইন রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পের (Offline registration camp) ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে এই ক্যাম্পগুলির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে এবং তা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত। রবিবার এবং অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলিকে বাদ দিয়ে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ক্যাম্পগুলি খোলা রাখা হচ্ছে। নিজের এলাকার নির্দিষ্ট ক্যাম্পটি ঠিক কোথায় বসেছে, তা বাড়িতে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই খুঁজে নেওয়া যাবে। আবেদনকারীদের শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে নিজের জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং ব্লকের সঠিক নাম সিলেক্ট করতে হবে, তাহলেই ক্যাম্পের সঠিক ঠিকানা স্ক্রিনে দেখা যাবে।
আবেদনের জন্য কোন কোন ডকুমেন্টস জমা করা বাধ্যতামূলক?
এই ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্পে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার জন্য প্রার্থীদের নিজেদের স্থানীয় ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণ করে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রের সাথে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পরিচয়ের প্রমাণস্বরূপ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস (Documents) যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে সমস্ত নথিপত্রের ফটোকপি জমা দিতে বলা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল— প্রার্থীর মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড এবং মার্কশিট। এছাড়া সচিত্র পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড (Aadhaar Card) এবং ভোটার কার্ড জমা দিতে হবে। আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রার্থীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতার স্পষ্ট জেরক্স কপি এবং এর পাশাপাশি তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবিও আবেদনপত্রের সাথে যুক্ত করে জমা করা আবশ্যক।
হেল্পলাইন এবং সহায়তার বিস্তারিত তথ্য
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত যে কোনও বিভ্রান্তি দূর করার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে ডেডিকেটেড হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। যদি কোনও আবেদনকারীর এই স্কিম বা ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও রকম প্রশ্ন থাকে, তবে তাঁরা সরাসরি ১৮০০৩৪৫০১১৭ (18003450117) অথবা ০৩৩-২২১৪০১৫২ (033-22140152) নম্বরে কল করে প্রয়োজনীয় সহায়তা লাভ করতে পারবেন।